আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আসক ফাউন্ডেশন – আসক ফাউন্ডেশন

আমাদের সম্পর্কে

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আসক ফাউন্ডেশন ন্যায় বিচার, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা লক্ষ্যে কাজ করা একটি অরাজনৈতিক অলাভজনক সংগঠন। আমরা বিশ্বাস করি একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য প্রত্যেক নাগরিকের আইনী অধিকার এবং সুবিচারের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য সমাজের প্রতিটি স্তরে আইনগত সচেতনতা তৈরি এবং আইনের সঠিক প্রয়োগে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

  • আইন সুরক্ষা সমাজ নিশ্চিত করাঃ সকল শ্রেণির মানুষের জন্য ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

  • সচেতনতা বৃদ্ধিঃ নাগরিকদের আইন ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তোলা একটি নৈতিক ও দায়িত্বশীল সমাজ।

  • গবেষণা ও প্রশিক্ষণঃ মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে গবেষণাধর্মী কার্যক্রম এবং আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন।

  • ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোঃ সমাজের দুর্বল, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষ যাদের বিনা মূল্যে আইনী পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান।

  • দ্রুত বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তঃ মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সঠিক আইনে সমাধানের ব্যবস্থা করা।

মূলনীতি সমূহঃ

  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাঃ আমাদের প্রতিটি কাজ স্বচ্ছ এবং জনস্বার্থের জন্য উন্মুক্ত।

  • মানবাধিকার সংরক্ষণঃ প্রতিটি মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

  • অবিচার প্রতিরোধঃ যে কোনো ধরনের বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

আমাদের প্রধান কার্যক্রমঃ

  • আইনী পরামর্শ ও সহায়তাঃ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান।

  • মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ ও প্রতিকারঃ বিভিন্ন আইনি ও নৈতিক প্রশ্নে সোচ্চার থেকে সমাজে ন্যায় বিচারের পরিবেশ তৈরি।

  • আইনগত সচেতনতা ও কর্মসূচীঃ স্কুল, কলেজ এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন।

  • গবেষণা ও প্রতিবেদন প্রকাশঃ আইনের শাসন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রতিবেদন ও গবেষণা।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি :

আমাদের লক্ষ্য হল এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং যে কোনো ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। আসক ফাউন্ডেশন মানুষকে ন্যায় বিচারের পথে শক্তিশালী করতে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।

“সুন্দর ব্যবহার আপনার সঞ্চয় যা কখনো কখনো অর্থে চেয়েও বেশি উপকারে আসে”

  • * হকের পথে যদি তুমি একা হও, তবে তুমি একাই একটি দল।

  • * ক্ষমতা তখনই প্রয়োজন যখন আপনি খারাপ কিছু করতে চান। অন্যথায় সবকিছু করার জন্য ভালোবাসাই যথেষ্ট।

আসক ফাউন্ডেশন

ASOK FOUNDATION

গঠনতন্ত্র

সংগঠনের নাম : আসক ফাউন্ডেশন

প্রধান কার্যালয় : সাত্তার সেন্টার (হোটেল ভিক্টোরিয়া ১৩ তম তলা), ৩০/এ, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০।

কার্য এলাকা : সমগ্র বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী।

উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য : এই ফাউন্ডেশনটি আর্ত-মানবতার সেবায় নিয়োজিত একটি কল্যাণমুখী, অরাজনৈতিক, অলাভজনক দাতব্য বেসরকারি মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।

নিম্নে বর্ণিত সকল উদ্দেশ্যাবলী বাস্তবায়নের পূর্বে সরকার/সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবগতি প্রদান পূর্বক কার্যক্রম আরম্ভ হইবে ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট আইনে গঠিত বলিয়া গণ্য হইবে।

১. এই ফাউন্ডেশন দেশের অসহায়, দুঃস্থ নির্যাতিত নারী, পুরুষ সহ সকল প্রকার আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য ব্যবস্থা করবে। এই ফাউন্ডেশন আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্য শালিশী সভা করে স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসা করার জন্য কাজ করবে প্রয়োজনে এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে প্রশাসনের সহযোগিতা গ্রহণ করবে।

২. দেশের সকল পর্যায়ের সকলেই এই ফাউন্ডেশনের দ্বারস্থ হতে পারবে এবং সবাইকে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে। এই ফাউন্ডেশনের যেকোন ব্যক্তি আইনগত সহযোগীতার জন্য লিখিত আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ সরোজমিনে আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে তদন্ত করে আইনগত সহায়তা প্রদানে সচেষ্ট হবে।

৩. দুর্ভিক্ষ, মহামারী খড়া ভূমি ক্ষয় ভূমিরূপ প্রাকৃতিক দূর্যোগ সিডর, আইলা সুনামি ও বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রকল্প গ্রহণ করা।

৪. এই ফাউন্ডেশন দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও কার্যক্রম প্রকাশের লক্ষ্যে সরকারি বিধি মোতাবেক পত্রিকা, বুলেটিন, সাময়িকী ম্যাগাজিন, সংবাদ চিত্র, ভিডিও ডকুমেন্টারী ফিল্ম ইত্যাদি প্রকাশ ও প্রচার ব্যবস্থা করা।

৫. এই ফাউন্ডেশনটি সকল শ্রেণীর ব্যক্তিদের জন্য মানবাধিকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে গণমানুষের স্বার্থে ফাউন্ডেশন স্ব-উদ্দেশ্যে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।

৬. এই ফাউন্ডেশনটি দুঃস্থদের পুনর্বাসন, নারী পুনর্বাসন ও তাদের জন্য শেল্টার হোম, বিনা বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, দুঃস্থ কয়েদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে।

৭. সকল প্রকার সামাজিক অপরাধসমূহ প্রতিরোধ ও নির্মূলকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ দুর্বল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সক্রিয় কার্যক্রমে যে কোন মারাত্মক রোগব্যাধি ও বর্তমান বিশ্বের মহামারী/মরণব্যাধি সংক্রামক এসটিডি এইচ আই ভি এইডস প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারে। এজন্য রাষ্ট্রীয় ও বিদেশী অনুদান গ্রহণ করিতে পারিবেন।

চতুর্থ ইমেজটির সম্পূর্ণ টেক্সট হুবহু টাইপ করে নিচে দেওয়া হলো। আগের পৃষ্ঠাগুলোর ধারাবাহিকতায় এটি ব্যবহার করতে পারবেন:

৮. দরিদ্র গণমানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সকল ধরণের জনহিতকর কার্যক্রম পরিচালনা করিবে ও মানবাধিকার বিষয়ক কাজের জন্য বিশেষ অবদানের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করবে।

৯. এই ফাউন্ডেশন দেশের সকল তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনের প্যারালাল প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবে। এই ফাউন্ডেশন প্রবাসীদের উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতা সৃষ্টি ও আইনি সহায়তায় কাজ করবে।

১০. অবহেলিত, অসহায়, দুঃস্থ ও দরিদ্র পীড়িত মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

১১. অশিক্ষিত/অর্ধশিক্ষিত ও ঝরেপড়া শিশুদের বিশেষ পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে।

১২. এই ফাউন্ডেশন নাটক, টেলিভিশন, সভা, সেমিনার মানবাধিকার প্রশিক্ষণের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে মানবাধিকার কর্মী সৃজন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে।

১৩. এই ফাউন্ডেশনটি সকল পেশার মানুষের সার্বিক কল্যাণে আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে জমি, সম্পদ বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, নারী ও শিশু পাচারসহ যে কোন বিষয়ে প্রশাসনের সহিত এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে।

১৪. অভীষ্ঠ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, পারিবারিক পুষ্টি, নিরাপদ মাতৃত্ব, প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও যুগোপযোগী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কাজ করবে।

১৫. যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার উপকূলবাসী, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অসহায় জনগোষ্ঠীকে অত্র ট্রাস্টের উদ্যোগে সরকার, দেশি-বিদেশী দাতা, সাহায্য সংস্থা সহ খাদ্য ও ওষুধ এবং বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, আর্থিক ব্যবসা বাণিজ্যিক ও বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে অত্র জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

১৬. বেকার যুব সমাজকে অভিশাপ মুক্ত করে শক্তিশালী জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে সংস্থার যুব কল্যাণ শাখা কাজ করে যাবে। অশিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের শ্রেণি বিন্যাস করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা প্রদান করবে। এই শ্রেণির নাগরিকদের অপসংস্কৃতি চর্চা, অসামাজিক কার্যকলাপ হতে বিরত, আত্মহত্যা রোধ, মাদক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এই লক্ষ্যে হাঁস-মুরগীর খামার, গবাদী পশুর খামার ও মৎস্য খামার, গরু মোটা-তাজাকরণ প্রকল্প, কম্পিউটার, সেলাই, হস্তশিল্প ও নার্সিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

১৭. সমাজের অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবামূলক সাপ্তাহিক, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং এর মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করা ও মহিলাদের পিরিয়ডকালীন স্যানিটেশন সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় ওষুধ সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকরণ গ্রহণ করা।

১৮. নারীর ক্ষমতায়ন ও পারিবারিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করবে।

১৯. দেশব্যাপী সংগঠনের পক্ষ থেকে গণজাগরণ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির নিকট হইতে স্পন্সর গ্রহণ করা যাবে।

পঞ্চম ইমেজটির সম্পূর্ণ টেক্সট হুবহু টাইপ করে নিচে দেওয়া হলো। পূর্ববর্তী ধারাগুলোর ধারাবাহিকতায় এটি আপনার ডকুমেন্টের পরবর্তী অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন:

২০. ট্রাস্ট অসহায় জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অথবা সমমানের অন্য সহযোগিতা প্রদান অথবা অত্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে যে কোন কল্যাণকর প্রতিষ্ঠান করা অথবা ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার ব্যাপারে সরকার বাহাদুরের সহযোগিতা নিয়ে অথবা দেশি-বিদেশী বিত্তবান/বিত্তবানদের থেকে এবং প্রতিষ্ঠান কিংবা সাহায্য সংস্থা থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে যাকাত তহবিল গঠন করতে পারে।

২১. বয়স্ক অক্ষম বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের কল্যাণার্থে আশ্রমের মাধ্যমে থাকা খাওয়া বিনোদন ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

২২. সরকারের বিভিন্ন খাত হতে আয়কর আদায় ও আয়কর প্রদানে যোগ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ ও দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও পৌরসভায় অবস্থিত বিপণী বিতানের হোল্ডিং নম্বর এবং সড়ক নম্বর স্থাপন করা হবে।

২৩. দেশব্যাপী ট্রাস্টের শাখা কার্যালয় সেবামূলক তথা মাতৃসদন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্লাড ব্যাংক ভবন আশ্রয় কেন্দ্র এবং চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে সরকারের খাস জমি বন্দোবস্ত গ্রহণ করতে পারে।

২৪. এই ট্রাস্টের সকল কর্মকাণ্ড প্রকাশের জন্য একটি মুখপত্র প্রকাশ করা হবে। এতে সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপন সাক্ষাৎকার দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিবেদন স্থান পাবে।

২৫. ট্রাস্টের উন্নয়নের স্বার্থে ট্রাস্টের স্থাবর, অস্থাবর দানকৃত সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর করিতে পারিবেন। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালকসহ সদস্যের এক-তৃতীয়াংশ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে যে কোন ব্যক্তিকে বকলমে স্বাক্ষর করে হস্তান্তরের ক্ষমতা অর্পণ করিবেন এবং ট্রাস্টের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়ন কাজের দরপত্র আহ্বানসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব করিতে পারিবেন ও উন্নয়নের লভ্যাংশ হইতে একটি অংশ ট্রাস্টের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।

ট্রাস্টের ক্ষমতা :

ট্রাস্ট তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমূহ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট সংগঠন, ব্যক্তি বা সংস্থা হতে চাঁদা, দান, অনুদান, আর্থিক সাহায্য যে কোন স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি নিঃশর্তে আরোপিত গ্রহণযোগ্য শর্তে গ্রহণ করতে পারবে। তবে, প্রকাশ থাকে যে, বিদেশী সাহায্যের ক্ষেত্রে ১৯৭৮ মানিয়া চলিতে হইবে।

ফাউন্ডেশনের আয় :

ট্রাস্টের আয় উহার উদ্দেশ্য সমূহ বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করা হবে। উহার আর সদস্যের মধ্য হতে লাভ বা বোনাস অন্যান্য পকেট মানী বা অন্য আকারে বণ্টন করা যাবে না।

কার্যানির্বাহী কমিটির যে সকল সদস্য সংগঠন উন্নতি সাধনের জন্য বার করা হবে উহার সকল সদস্যদের সম্মানী ভাতা ট্রাস্ট থেকে গ্রহণ করতে পারবেন তবে কার্যকরী বোর্ড অফ ট্রাস্টের অনুমোদনক্রমে।

ষষ্ঠ ইমেজটির সম্পূর্ণ টেক্সট হুবহু টাইপ করে নিচে দেওয়া হলো। পূর্ববর্তী পৃষ্ঠাগুলোর ধারাবাহিকতায় এটি আপনার ডকুমেন্টের পরবর্তী অংশ হিসেবে যুক্ত করতে পারবেন:

সংঘ স্মারক ও গঠনতন্ত্র

১। উক্ত ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা কার্যাদি সংঘ বিধান রূপে নিম্নে ক্রমান্বয়ে বিন্যাস করা হলো : ট্রাস্টের সদস্য লাভের যোগ্যতাঃ কেবল মাত্র বাংলাদেশী নাগরিক এবং ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে একমত পোষণকারী নাগরিক সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত জীবনের সৎ, চরিত্রবান, নৈতিক গুণসম্পন্ন, সুস্থ মস্তিষ্ক যে কোন ব্যাপারে বিচার বিশ্লেষণ, ভাল মন্দ প্রমাণে নিজস্ব সিদ্ধান্ত দেবার মত বুদ্ধিমান, ঝুঁকি নেবার মত সাহসী, কাজে ঐকান্তিকতা, নিষ্ঠাবান যোগ্য ব্যক্তি আর্থিক স্বাবলম্বিরা ইচ্ছা করলে চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালক বরাবর সদস্য পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রদ্রোহী ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কোন ব্যক্তি উক্ত ট্রাস্টের সদস্য হতে পারবেন না।

২। ট্রাস্টের সদস্য লাভের পদ্ধতি : * ক) অত্র ট্রাস্টে ভর্তি ইচ্ছুক ব্যক্তিকে কমপক্ষে ২ জন গণ্যমান্য ব্যক্তির সুপারিশসহ ট্রাস্ট কর্তৃক নির্ধারিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালকের বরাবর আবেদন করে হবে। তবে, চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালকের স্থানে যিনি ভারপ্রাপ্ত থাকিবেন তিনিও কাজ করিতে পারিবেন।

  • খ) সদস্যের ভর্তি ফি ১,১০০/- (এক হাজার একশত) টাকা এবং মাসিক চাঁদা ১০০ টাকা।

  • গ) ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও নির্বাহী পরিচালকের জমাকৃত সকল সদস্যদের আবেদন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে বোর্ড অফ ট্রাস্টের অনুমোদনের জন্য পেশ করবেন এবং অনুমোদন সাপেক্ষে সদস্য খাতায় লিপিবদ্ধ করবেন।

৩। ট্রাস্টের সদস্যদের শ্রেণিবিভাগঃ অত্র ট্রাস্টের নিম্নলিখিত ৬ ধরণের সদস্য থাকবে।

  • ক) সাধারণ সদস্য

  • খ) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

  • গ) দাতা সদস্য

  • ঘ) আজীবন সদস্য

  • ঙ) উপ সদস্য

  • চ) অনাবাসিক সদস্য

  • ক) সাধারণ সদস্যঃ বর্ণিত শর্তাবলী সাপেক্ষে পদ লাভের জন্য যে সদস্য ভর্তি ফি ১,১০০/- (এক হাজার একশত) টাকা এবং মাসিক চাঁদা ২০০ (দুইশত) টাকা প্রদান করে সদস্য হতে পারবেন।

  • খ) প্রতিষ্ঠাতা সদস্যঃ যাদের উদ্যোগ ও স্বাক্ষর দানে ট্রাস্টটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারা সকলেই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে গণ্য হবেন। উক্ত সদস্যগণ সাধারণ সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং ভোটাধিকার সহ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

৪। ট্রাস্ট বোর্ডের সকল আজীবন সদস্যগণ মৃত্যুবরণ করিলে তাদের মনোনীত সদস্য পদমর্যাদা পাবেন এবং আজীবন সদস্যগণ আর্থিক ও মাসিক সম্মানী গ্রহণ করবেন।

সপ্তম ইমেজটির সম্পূর্ণ টেক্সট হুবহু টাইপ করে নিচে দেওয়া হলো। এটি আগের ৬ নম্বর পৃষ্ঠার ‘৩। ট্রাস্টের সদস্যদের শ্রেণিবিভাগ’-এর পর থেকে ধারাবাহিক অংশ হিসেবে যুক্ত হবে (সাথে প্রথম পেজটি আবারও আপলোড করার কারণে সেটি আর নতুন করে টাইপ করা হলো না):

  • গ) দাতা সদস্যঃ সর্বোচ্চ ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা থেকে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা অথবা সমপরিমাণ কোন বস্তু ফাউন্ডেশনে দান করলে তিনি দাতা সদস্য হবেন। এই সদস্যগণ ট্রাস্টের সাধারণ সভায় উপস্থিত হতে পারবেন এবং ট্রাস্ট সংক্রান্ত নিজ নিজ মতামত পেশ করতে পারবেন। কিন্তু ভোট দিতে কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

  • ঘ) আজীবন সদস্যঃ কোন সদস্য এককালীন ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা প্রদান করলে তাকে আজীবন সদস্য হিসাবে গণ্য করা হবে।

  • ঙ) উপ-সংশ্লিষ্ট / উপ-সদস্যঃ দেশে যে কোন অঞ্চলের হতে পারে। উপ-সদস্যরা সংস্থার নির্বাচনে অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্থার অন্য সব কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে অংশ গ্রহণ করবে এবং সব ধরণের সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। ৫০/-(পঞ্চাশ) টাকা হারে মাসিক চাঁদা সদস্য পদ লাভের ফরম পুরন পূর্বক এককালীন ৬০০/- টাকা বছরের ফি প্রদান করতে হবে।

  • চ) অনাবাসিক সদস্যঃ বিদেশে কর্মরত পুরুষ ও মহিলারা অনাবাসিক সদস্য পদ লাভ করিতে পারিবেন। সংস্থার নির্ধারণী সদস্য ফরম পূরণ পূর্বক মাসিক চাঁদা ৩০০/- (তিন শত) টাকা ও ভর্তি ফি বাবদ এককালীন ৩,০০০/-(তিন হাজার) টাকা অনুদান প্রদান করে এ পদ লাভ করা যাবে। ট্রাস্টের নির্বাচন ব্যতীত অন্য সকল কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করবে এবং সুবিধা ভোগ করবে। প্রবাসে অবস্থান কালে সেই দেশে মানবাধিকার সংক্রান্ত পরিচালনা করবে এবং এ সংক্রান্ত সুযোগ সৃষ্টির জন্য সেই দেশে দায়িত্বব্রত বাংলাদেশী দূতাবাসের নিকট হতে সহযোগিতা প্রাপ্তি সংক্রান্ত ব্যবস্থা করা যাবে।

৫। ট্রাস্টের সদস্য পদ বাতিল, পুনঃবহাল ও পদ পূরণঃ

  • ক) সদস্য পদ লাভের শর্তাবলীর নিরিখে বোর্ড অফ ট্রাস্ট পরিষদ যার সম্পর্কে এই ট্রাস্টে থাকার যোগ্য নন বলে সিদ্ধান্ত নিবেন, সদস্য পদ হারাবেন।

  • খ) যে কোন নির্বাহী পরিষদের সদস্য পর পর তিন সভায় যুক্তি সঙ্গত কারণ ব্যতীত অনুপস্থিত থাকলে বোর্ড অফ ট্রাস্ট তার সদস্য পদ বাতিল বলে গণ্য করতে পারেন।

  • গ) যদি সদস্য ইচ্ছাকৃত ভাবে পদত্যাগ করেন।

  • ঘ) অত্র ট্রাস্টের সংবিধান অমান্য করলে।

  • ঙ) ট্রাস্টের শৃঙ্খলা স্বার্থের পরিপন্থী কোন কাজ করলে।

  • চ) সদস্য পদ প্রাপ্তির পর ০৩ (তিন) মাস চাঁদা অনাদায় থাকলে।

  • ছ) চরিত্রহীন, নেশাগ্রস্ত কোন ব্যক্তি, সমাজবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী কোন কাজে লিপ্ত থাকলে, মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে, আর্থিক অসঙ্গতি দেখা দিলে ও মৃত্যু হলে।

১. আসক শব্দের অর্থ কী?

আসক শব্দের অর্থ হলো প্রেমিক বা প্রণয়ী। এটি আরবী শব্দ এবং বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আরও স্পষ্ট করে বললে আসুক মানে সেই ব্যক্তি, যিনি কারো প্রেমে মগ্ন বা আসক্ত। এটি অনুরাগ, ভালোবাসা, বা গভীর মগ্নতার একটি অনুভূতি প্রকাশ করে।

২. মানবাধিকার সংস্থায় কেন কাজ করা উচিত?

মানবাধিকার সংস্থা হলো বিশ্বের সকল সংগঠন থেকে ভিন্ন কারণ এখানে ন্যায় বিচারের কাজ করে থাকে। একজন খারাপ মানুষও এইসব সংস্থায় কাজ করলে ভালো হতে বাধ্য। আর মানবাধিকার সংস্থায় কাজ করলে নিজে ভালো থাকা যায় এবং দেশকে ভালো রাখা যায়। তাই প্রতিটা ব্যক্তিকে মানবাধিকার সংস্থায় কাজ করা উচিত।

৩. মানবাধিকার সংস্থা কি?

মানবাধিকার সংস্থা বা মানবাধিকার সংগঠন হলো এমন একটি বেসরকারি সংস্থা যা নিপীড়িতদের মানবাধিকার লঙ্ঘন সনাক্তকরণ, ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, এর বিশ্লেষণ ও প্রকাশনা, প্রাতিষ্ঠানিক উকিল পরিচালনা করার মাধ্যমে জনসচেতনতার প্রচার করে থাকে।

৪. মানবাধিকার কী এবং এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

মানবাধিকার বলতে মানুষের জন্মগত এবং অবিচ্ছেদ্য অধিকারকে বোঝায় যা সকল মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করে। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো সার্বজনীনতা, সহজাত ও অবিচ্ছেদ্যতা, অহস্তান্তরযোগ্যতা এবং অলঙ্ঘনীয়তা।

৫. মানবাধিকারের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

  • সার্বজনীনতা: মানবাধিকার জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অন্য কোন ভেদাভেদ ছাড়াই পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

  • সহজাত ও অবিচ্ছেদ্যতা: প্রতিটি মানুষ জন্মগতভাবে এই অধিকারগুলো নিয়ে জন্মায় এবং এগুলো তার অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

  • অহস্তান্তরযোগ্যতা: এই অধিকার কারো কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া বা হস্তান্তর করা যায় না, কারণ এগুলো ব্যক্তির সত্তার সাথে জড়িত।

  • অলঙ্ঘনীয়তা: এই অধিকারগুলো লঙ্ঘন করা যায় না এবং রাষ্ট্র বা অন্য কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এগুলোকে ক্ষুণ্ন করতে পারে না।

প্রশ্নঃ ১। মানবাধিকার কাকে বলে? মানবাধিকার রক্ষায় চারটি করণীয় উল্লেখ কর।

উত্তর: মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন সকল সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকারকে মানবাধিকার বলা হয়। নিচে মানবাধিকার রক্ষায় চারটি করণীয় উল্লেখ করা হলোঃ

  • ক. কাউকে মানবাধিকার বিরোধী কোনো কাজ করতে দেখলে তাকে এ বিষয়ে সচেতন করব।

  • খ. সচেতন করার পরও মানবাধিকার বিরোধীরা পিছপা না হলে প্রয়োজনে প্রতিবাদ করব।

  • গ. মানবাধিকার রক্ষায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন আইন মেনে চলব।

  • ঘ. মানবাধিকার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করব।

প্রশ্নঃ ২। নারী ও শিশু পাচার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন কেন?

  • ১. মানবাধিকার বাস্তবায়নের জন্য

  • ২. নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য

  • ৩. সুন্দর জীবন যাপনের জন্য

  • ৪. ঝুঁকিপূর্ণ ও অমানবিক কাজ বন্ধ করার জন্য

  • ৫. পরিবারের দুঃখ কষ্ট লাঘব করার জন্য।

৩। মানবাধিকার কেন প্রয়োজন?

মানবাধিকার আমাদের একে অপরের সাথে সংযুক্ত করে অধিকার এবং দায়িত্বের একটি ভাগাভাগি সেটের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির তাদের মানবাধিকার উপভোগ করার ক্ষমতা নির্ভর করে অন্যদের সেই অধিকার গুলিকে সম্মান করার উপর। এর অর্থ হল মানবাধিকারের সাথে আলাদা মানুষ এবং সম্প্রদায়ের প্রতি দায়িত্ব এবং কর্তব্য জড়িত।

৪। ইসলামে মানবাধিকার কি?

ইসলামে মানবাধিকার বলতে বোঝায় জীবনের নিরাপত্তা, সম্মান, সম্পদ, ধর্ম এবং জ্ঞান। রক্ষার অধিকারসহ মানুষের জন্মগত এবং জন্মসূত্রে প্রাপ্ত মৌলিক অধিকার, যা একমাত্র আল্লাহ প্রদত্ত এবং কোনো শাসকের দ্বারা পরিবর্তন করা যায় না। এই অধিকারগুলো কুরআন ও হাদিসের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যার মধ্যে রয়েছে ন্যায়ের অধিকার, আইনের সমান সুরক্ষা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

৯। মানবাধিকারের মূলনীতি

  • জীবনের নিরাপত্তা: প্রত্যেক মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

  • সম্পদ রক্ষা: প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিরাপত্তা ও মালিকানার অধিকার নিশ্চিত করা।

  • সম্মান ও মর্যাদা: মানুষের সম্মান, ইজ্জত এবং মর্যাদার সুরক্ষা করা, কোনো ধরনের বর্ণবাদ বা জাতিগত বৈষম্যকে প্রশ্রয় না দেওয়া।

(FAQ)

প্রশ্নঃ ১০। মানবাধিকার গুলো আমরা কোথা থেকে পেয়ে থাকি?

উত্তর: মানবাধিকারগুলো আমরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে পেয়ে থাকি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র মানবাধিকারগুলো বাস্তবায়ন করে আমাদের জীবনকে ভালোভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

প্রশ্নঃ ১১। প্রধান মানবাধিকার কোনটি?

উত্তর: শিক্ষার একটি প্রধান মানবাধিকার। আমাদের দেশে অনেকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত সকলকে তাই শিক্ষার সুযোগ দেয়া উচিত।

প্রশ্নঃ ১২। কেন আমাদের সবার অধিকারকে শ্রদ্ধা করতে হবে?

উত্তর: পৃথিবীর সব মানুষের কল্যাণ ও সমান উন্নয়নের জন্য আমাদের অবশ্যই সবার অধিকারকে শ্রদ্ধা করতে হবে। আমরা যদি প্রত্যেকেই সবার অধিকারকে শ্রদ্ধা করার অভ্যাস করি তাহলে আমাদের সমাজটা অনেক সুন্দর হবে।

প্রশ্নঃ ১৩। মানবাধিকার রক্ষায় কখন প্রতিবাদ করা প্রয়োজন

উত্তর: মানবাধিকার লঙ্ঘন একটা ঘৃন্য কাজ। বাড়িতে, বিদ্যালয়ে এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে কেউ যদি মানবাধিকার বিরোধী কোন কাজ করে তবে তাকে এ বি য়ে সচেতন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ করতে হবে।

প্রশ্নঃ ১৪। নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কী?

উত্তর: মানবাধিকারের লক্ষ্যে করা সরকার কর্তৃক বিভিন্ন আইন মেনে চলা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করা নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।

প্রশ্নঃ ১৫। কয়েকটি মৌলিক অধিকারের নাম লিখ।

উত্তর: কয়েকটি মৌলিক अधिकारের নাম নিচে দেওয়া হলো-

  • ক. শিক্ষার অধিকার

  • খ. বিচার পাওয়ার অধিকার।

  • গ. আইনের চোখে সব মানুষ সমান।

  • ঘ. নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার।

  • ঙ. স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার।

অফিস ভাড়ার সার্কুলার

জেলা অফিসঃ

  • সর্বনিম্ন ৭১ (একাত্তর) জন বিশিষ্ট সদস্য থাকলে অফিস ভাড়া ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অনুমোদন দেওয়া হইবে। শর্ত, প্রত্যেকের গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী ফি জমা দিতে হবে।

অফিসের আসবাবপত্র সমূহঃ

  • টেবিল – ২টা

  • চেয়ার রিভলবিং – ২টা

  • ছোট চেয়ার – ১৫টা

  • ফ্যান – ১টা

  • লাইট – ২টা

উপজেলা অফিসঃ

  • সর্বনিম্ন ৫১ (একান্ন) জন বিশিষ্ট সদস্য থাকলে office ভাড়া ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা অনুমোদন দেওয়া হইবে। শর্ত, প্রত্যেকের গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী ফি জমা দিতে হবে।

অফিসের আসবাবপত্র সমূহঃ

  • টেবিল – ২টা

  • চেয়ার রিভলবিং – ২টা

  • ছোট চেয়ার – ১৫টা

  • ফ্যান – ১টা

  • লাইট – ২টা

উপজেলা অফিসঃ

  • সর্বনিম্ন ৩১ (একত্রিশ) জন বিশিষ্ট সদস্য থাকলে অফিস ভাড়া ১,৫০০/- (এক হাজার পাঁচ শত) টাকা অনুমোদন দেওয়া হইবে। শর্ত, প্রত্যেকের গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী ফি জমা দিতে হবে।

অফিসের আসবাবপত্র সমূহঃ

  • টেবিল – ১টা

  • চেয়ার রিভলবিং – ১২টা

  • ফ্যান – ১টা

  • লাইট – ১টা

    আইন সাহায্য কর্মী এবং তার ভূমিকা ও কার্যাবলী

    ১। আইন সাহায্য কর্মীর ভূমিকা (Role of Legal Aid worker)

    ক) আইন সাহায্য কর্মী বলতে কী বুঝায়?

    যিনি মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে আইন সম্পর্কে বুনিয়াদি জ্ঞানের ভিত্তিতে

    • ১) নিপীড়ন, নিগৃহীত, বঞ্চিত, অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে মৌলিক মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে নিষ্ঠাবান;

    • ২) জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন অংশের মধ্যে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে অধিকার সচেতন করে তোলার দায়িত্বে নিয়োজিত;

    • ৩) বিভিন্ন বিতর্কিত বিরোধীসমূহকে গ্রাম্য বৈঠক, সালিসীসহ বিভিন্ন সম্মানজনক উপায়ে নিষ্পত্তিতে সহযোগিতায় উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ;

    • ৪) মামলা শুরু হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে প্রাথমিক তথ্য সরবরাহের ভিত্তিতে ঘটনার আনুপূর্বিক বিবরণ লিপিবদ্ধের মাধ্যমে আইনজীবী অথবা আইন সাহায্য সমিতিকে সহায়তা করার মাধ্যমে মামলা পরিচালনায় সহায়তা।

    • ৫) কোন বিপন্ন মানুষকে আইনগত পরামর্শ প্রদানসহ আইন সাহায্য পাবার জন্য যে কোন অনুরূপ সংস্থার সাথে পরিচয় করে দিতে উদ্যোগী ভূমিকা পালন।

    যিনি সুচারুরূপে উপরোক্ত দায়িত্বসমূহ পালন করতে উদ্যোগী হবেন তিনিই আইন সাহায্য কর্মী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

    বাংলাদেশসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার যে সমস্ত আইন সাহায্যকারী সংস্থা আইনগত সেবামূলক কর্মসূচিতে নিয়োজিত তারা নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের আইন সাহায্য কর্মীরূপে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

    দল বা জনগোষ্ঠীর নেতাগণ, গ্রামীণ যুবক, সমাজকর্মী, শ্রমিক সমিতির নেতা, সংগঠক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, ধর্মীয় কর্মী, যুবক, আইনজীবী, আইনের ছাত্র, স্বেচ্ছাসেবী, ছাত্র (যারা জনগোষ্ঠীর বিভিন্নংশের মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকেন) এবং আদিবাসী সম্প্রদায় কিংবা পুরোপুরি অবহেলিত রাজনৈতিক কর্মী।

    যারা আইন সাহায্য কর্মী হিসাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হন তাদের কর্তব্য হলো অবহেলিত দল, বিভিন্ন সম্প্রদায়কে আইনগত সেবা প্রদান এবং নিজস্ব পেশার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার (ছাত্র, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, শ্রমিক) মানুষকে আইন সাহায্যকারী হিসাবে আংশিক শ্রমদানে উদ্বুদ্ধ করা।

মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তা দানের মূলনীতি

কোন কোন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আইন সাহায্য কর্মী কোন নির্দিষ্ট সংস্থার সাথে জড়িত না থাকলে তার নিজের মনমত কাজ করে থাকেন এবং কোন গোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তির আইন সাহায্য প্রয়োজন হলে তাদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে থাকেন। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আইন সাহায্যকর্মী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করে থাকেন। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং শরণার্থী দলের প্রতিনিধি সমূহকে উক্ত দলের সমস্যা মোকাবেলায় প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্বন্ধে অবহিতকরণ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

অবহেলিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়নের জন্য সেবধর্মী উন্নয়নমূলক সংস্থাকে সুপারিশ করা এবং সেবধর্মী সংস্থাসমূহের কর্মীদের আইন সাহায্যকারী হিসাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া অথবা পৃথক কর্মচারী নিয়োগ করে তাদের শুধুমাত্র আইন সাহায্য কর্মী হিসাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া আইন সাহায্য কর্মীর দায়িত্ব।

কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দেখা গিয়াছে একজন আইন সাহায্যকারীর কান সংগঠন ভুক্ত হয়ে (স্বেচ্ছাশ্রম অথবা বেতন ভুক্ত হিসাবে) কাজ করা পৃথকভাবে কাজ করার চাইতে সুবিধাজনক।

২. আইন সাহায্য কর্মীর কাজ

নিম্নেক্ত কাজের জন্য আইন সাহায্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।

গণসংগঠন গড়ে তোলার জন্য সুযোগ করে দেওয়া: কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে জনগণকে সংগঠিত হওয়ার সহযোগিতা করা। নিজস্ব সংগঠনের উপযোগিতার বিষয়ে যথাযথ ধারণা দেওয়ার ভিত্তিতে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে সার্বিক সাহায্য করা। ইহা ছাড়া জনগোষ্ঠীকে ঐক্য, শৃংখলা, সহৃদয়তার ভিত্তিতে দৃঢ় ঐক্য সংহতি গড়ে তুলতে বিভিন্ন ধরনের মিটিং সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সংগঠনের ব্যাপারে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া।

শিক্ষা ও বিবেক বৃদ্ধি শাণিতকরণ: জনগণকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ভিত্তিতে সরকার কর্তৃক জন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, জন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি প্রণয়নে তথ্য সরবরাহ ও সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত করা আবশ্যক। নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক পাঠচক্রসমূহে প্রাথমিক আইন সম্পর্কে পাঠ্যক্রম অব্যাহত রাখা।

সামাজিক বিশ্লেষণ: জনগণের বিভিন্ন সমস্যার কারণ সম্পর্কে সচেতন করে সমস্যার স্থায়ী অথবা সামারিক সমাধান কল্পে কাঠামোগত সিদ্ধান্ত সহযোগিতা করা।

সমর্থন: আইনজীবী এবং সমাজ হিতৈষীদের সহযোগিতায় আইন সাহায্য কর্মীগণ অবহেলিত জনগোষ্ঠী, তারা যাদের মাঝে প্রতিনিয়ত কাজ করছে, তাদের সমস্যামূহের কর্তৃপক্ষের নিকট তুলে ধরা। উদাহরণ হিসাবে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী অথবা ব্যক্তিকে কর্মকর্তাদের সামনে উপস্থিত করা।

আইনগত সহায়তাদান

পরামর্শ দেওয়া, মধ্যস্থতা করা এবং শালিস করা: আইন সাহায্য কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইন সাহায্য, অন্যান্য উপদেশসহ গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে তা মধ্যস্থতা ও শালিসী ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা এবং নিজেদের বিরোধ নিজেদের মধ্যে আপোষ নিষ্পত্তির পরামর্শ প্রদানের ব্যাপারে দক্ষ শালিস কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আইনগত প্রাথমিক সাহায্য: জরুরি পরিস্থিতিতে আইন সাহায্য কর্মীদের কাজ হয় তাৎক্ষণিক ও প্রাথমিকভাবে সমস্যার সমাধান করা। উদাহরণস্বরূপ কোন বন্দোবস্ত ভূমি হতে তাদেরকে উচ্ছেদের মোকদ্দমায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রাপ্তির মাধ্যমে উচ্ছেদ হতে বিরত থাকে।

বিস্তৃতিকরণ: অন্যান্য সংগঠন বা দলের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে (সাংবাদিক, গবেষক প্রভৃতি) সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানকল্পে সমর্থন যোগাযোগের উদ্যোগ গ্রহণ।

জনগণকে তাদের চাহিদার জন্য প্রতিনিধিত্ব করতে সমর্থন করুন: জনগণের বড় ধরনের সমস্যার ব্যাপারে সচেতন করে তোলা। প্রয়োজনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের দাবি উত্থাপন করা। যে কোন ধরনের প্রতিবাদ নিশ্চিতভাবে আলোচনা ও যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে সংগঠিত করা।

দলিল রচনা: জনগোষ্ঠীর বিশেষ বিশেষ ঘটনাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা একান্ত কর্তব্য। মোকদ্দমা বিষয়ভিত্তিক যাবতীয় নথি সংরক্ষণ এবং জনগোষ্ঠীর স্বার্থে ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সংরক্ষণ করা এবং কাজ সংক্রান্ত আর্থিক হিসাবসহ কার্যবিবরণী অবশ্যই আইন সাহায্য কর্মী সংরক্ষণ করবেন।

দলিলপত্র মুসাবিদা: সর্বসাধারণকে দরখাস্ত, নালিশ নামা, শপথ বাক্য এবং আইন সংক্রান্ত দলিল পত্র লিখতে সাহায্য করা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া। ক্ষেত্র বিশেষে দলিল পত্র আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদ করা। প্রয়োজনে আইনজীবীর সাহায্য ও পরামর্শ ক্রমে প্রয়োজনীয় নথি হিসাবে সংরক্ষণ করা।

আইনজীবীকে সহযোগিতা করা: যখন কোন মোকদ্দমা আইনজীবীর নিকট পাঠানো প্রয়োজন তখন, আইন সাহায্য কর্মী উক্ত মোকদ্দমা বিষয়ক প্রাথমিক অনুসন্ধান পরিচালনার মাধ্যমে মক্কেলকে জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষ্য একীভূত, ঘটনার সারাংশ প্রস্তুত, আইনগত গবেষণা পরিচালনা করে, এমনকি সহজ আর্জি মুসাবিদা করে আইনজীবীকে সাহায্য করতে পারেন।

ইহা ছাড়া আইন সাহায্য কর্মী নির্দিষ্ট অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মাঝে কাজ করে তাদের জীবন নির্ভর তথ্য রিপোর্ট প্রণয়ন করে। মহিলাদের মাঝে কাজ করার ভিত্তিতে সংগঠিত ও সহযোগিতা করে এবং সমস্যা সম্পর্কে রিপোর্ট প্রণয়ন করে।

ইহা ছাড়া গ্রামীণ বা আদিবাসী লোকদের সমস্যা সমাধান কল্পে আইন সাহায্য কর্মী কাজ করে যাবে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।

আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, ইত্যাদি

৪। লিগ্যাল এইড অফিসার কর্তৃক আপোষ-মিমাংসার উদ্যোগ গ্রহণ :-

(১) বিধি ৩ এর উপ-বিধি (৪) এর দফা (ক) এর অধীন প্রদত্ত পরামর্শের ভিত্তিতে কোন আবেদনকারী আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করিতে সম্মতি প্রদান করিলে, লিগ্যাল এইড অফিসার, সংশ্লিষ্ট বিরোধ আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে, বিষয়টি অপরপক্ষকে অবহিত করিয়া নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখপূর্বক ফরম-১ মোতাবেক তাহার লিখিত সম্মতি যাচনা করিবেন।

(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন ফরম-১ এর ‘খ’ অংশ পূরণপূর্বক আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করিতে অপরপক্ষ সম্মতি প্রদান করিলে, লিগ্যাল এইড অফিসার, পক্ষগণের উপস্থিতিতে মিমাংসা সভা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন।

(৩) উপ-বিধি (১) এর অধীন আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করিতে অপরপক্ষ সম্মতি প্রদান না করিলে, লিগ্যাল এইড অফিসার, বিষয়টির উপর উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়েরের নিমিত্ত,-

  • (ক) কমিটির মাধ্যমে প্রাপ্ত আবেদনের ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটির নিকট তাহার সুপারিশ প্রেরণ করিবেন; এবং

  • (খ) সরাসরি প্রাপ্ত আবেদনের ক্ষেত্রে, আইনগত সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটি বরাবরে আবেদন করিবার জন্য আবেদনকারীকে পরামর্শ প্রদান করিবেন এবং উহার একটি কপি সংশ্লিষ্ট কমিটির নিকট প্রেরণ করিবেন।

৫। মিমাংসা সভা :-

লিগ্যাল এইড অফিসার তদ্কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে লিগ্যাল এইড অফিস বা অন্য কোন সুবিধাজনক স্থানে মিমাংসা সভা অনুষ্ঠান করিবেন।

৬। পক্ষগণের প্রতি নোটিশ

(১) লিগ্যাল এইড অফিসার, মিমাংসা সভায় হাজির হইবার জন্য, পক্ষগণ বরাবর ফরম-২ (ক) মোতাবেক নোটিশ প্রেরণ করিবেন।

(২) এতদসংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতঃ উক্ত নোটিশ জারীকারক বরাবর হস্তান্তর করিবেন।

(৩) জারীকারক, নোটিশ গ্রহণের তারিখ হইতে অনধিক ৭ (সাত)) দিনের মধ্যে, পক্ষগণের ঠিকানায় নোটিশ জারীর ব্যবস্থা করিবেন।

(৪) উপ-বিধি (২) এ উল্লিখিত জারীকারক নিয়োগ না হওয়া অবধি জেলা জজ আদালত বা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নেজারত শাখা উহার জারীকারক দ্বারা জারীকার্য সম্পাদনে লিগ্যাল এইড অফিসকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, জেলা জজ আদালত বা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে নোটিশ জারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে এতদসংক্রান্ত ব্যয়ভার বহন করিতে হইবে।

৭। নোটিশ জারীর পদ্ধতি।

(১) জারীকারক নোটিশের একটি প্রচ্ছ উহার প্রাপককে সাধারণতঃ ব্যক্তিগতভাবে হস্তান্তর করিয়া জারী করিবেন এবং অন্য প্রচ্ছের উল্টা পৃষ্ঠায় প্রাপকের প্রাপ্তিস্বীকারসূচক স্বাক্ষর গ্রহণ করিবেন:-

তবে শর্ত থাকে যে, পক্ষগণ স্ব-শরীরে সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিসে উপস্থিত হইয়া নোটিশ গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে যথাযথভাবে নোটিশ জারী করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) কোন পক্ষ সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিসের স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাহিরে বসবাস করিলে তদবরাবরে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে (প্রাপ্তি স্বীকার পত্রসহ) নোটিশ জারী করা হইবে।

(৩) উপ-বিধি (১) ও (২) এর অতিরিক্ত হিসাবে, প্রয়োজনে, মোবাইল ফোনে এসএমএস বা ই-মেইল প্রেরণের মাধ্যমে নোটিশ জারী করা যাইবে।

(৪) উপ-বিধি (১) ও (২) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে নোটিশ জারী করা সম্ভবপর না হইলে নোটিশ জারীকারক দুই প্রচ্ছ নোটিশের এক প্রচ্ছ নোটিশ প্রাপক যে বাড়ীতে বা স্থানে বসবাস করেন বা সর্বশেষ বসবাস করিয়াছেন সেই বাড়ী বা স্থানের কোন প্রকাশ্য স্থানে লটকাইয়া দিবেন এবং অন্য প্রচ্ছের উল্টা পৃষ্ঠায় উপস্থিত সাক্ষীগণের স্বাক্ষর গ্রহণ করিবেন।

৮। পুনঃনোটিশ প্রেরণ ।-

কোন পক্ষ নির্ধারিত দিনে মিমাংসা সভায় উপস্থিত হইতে ব্যর্থ হইলে, লিগ্যাল এইড অফিসার, উপযুক্ত মনে করিলে, মিমাংসা সভার জন্য পুনরায় নতুন দিন ধার্যপূর্বক ফরম ২ (ক) মোতাবেক পক্ষগণকে পুনঃনোটিশ প্রেরণ করিতে পারিবেন।

৯। মিমাংসা সভার কার্যপ্রণালী ।-

(১) লিগ্যাল এইড অফিসার-

  • (ক) মিমাংসা সভায় সভাপতিত্ব করিবেন;

  • (খ) মিমাংসা সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিবেন;

    গ) মিমাংসা সভায় উপস্থিত পক্ষ কিংবা তাহাদের প্রতিনিধিগণকে বিরোধের বিষয়বস্তু সহ মিমাংসা কার্যক্রমের সুফল সম্পর্কে আলোকপাত করিবেন;

    (ঘ) ফরম-৩ মোতাবেক মিমাংসা সভায় উপস্থিত পক্ষগণ এবং, ক্ষেত্রমত, প্রতিনিধিদের হাজিরা গ্রহণ করিবেন;

    (ঙ) মিমাংসা সভার কার্যক্রম লিপিবদ্ধ করিবেন; এবং

    (চ) মিমাংসা সভা সমাপ্তির পর লিপিবদ্ধ কার্যক্রম সকলের সম্মুখে পাঠ করিয়া শুনাইবেন এবং পক্ষগণের বা, ক্ষেত্রমত, প্রতিনিধির স্বাক্ষর গ্রহণ করতঃ উহাতে নিজে স্বাক্ষর প্রদান করিবেন।

    (২) লিগ্যাল এইড অফিসার, তাহার নিজস্ব প্রভাব গ্রহণের জন্য, পক্ষগণের উপর কোনরূপ চাপ প্রয়োগ করিতে পারিবেন না।

    (৩) মিমাংসা কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হইবে সমতা, ন্যায়নীতি, সুবিবেচনা ও নিরপেক্ষতা।

    (৪) লিগ্যাল এইড অফিসার, তদ্কর্তৃক পরিচালিত মিমাংসা কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী নথিভুক্ত রাখিবেন এবং ফলাফল সংক্ষিপ্ত আকারে এতদসংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে পক্ষগণের অবলোকনের জন্য লিপিবদ্ধ করিবেন।

    ১০। মিমাংসা সভা মুলতবী ।

    মিমাংসা সভার কোন দিনের কার্যক্রম কার্যক্রম সমাপ্ত না হইলে বা উক্ত দিনে পক্ষগণ আপোষ মিমাংসায় উপনীত হইতে ব্যর্থ হইলে, লিগ্যাল এইড অফিসার, উপযুক্ত মনে করিলে, উক্ত দিনের মিমাংসা সভা মুলতবী করিয়া উভয় পক্ষের উপস্থিতির জন্য সুবিধাজনক অপর একটি দিন ধার্য করিবেন, যাহা কোনক্রমেই ৭ (সাত) দিনের অধিক হইবে না।

    ১১। মিমাংসার ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড অফিসারের ভূমিকা ।-

    লিগ্যাল এইড অফিসার বিরোধ মিমাংসা সহজতর করিবার ক্ষেত্রে নিম্নরূপ ভূমিকা পালন করিবেন, যথা:-

    (ক) মিমাংসার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি;

    (খ) মিমাংসার নীতি ও পদ্ধতি ব্যাখ্যা প্রদান;

    (গ) পক্ষগণের নিকট হইতে বিরোধ সম্পর্কীয় তথ্য সংগ্রহ;

    (ঘ) পক্ষগণের মধ্যকার প্রকৃত বিরোধের বিষয়টি সনাক্তকরণ;

    (ঙ) বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে মিমাংসা কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা অবলম্বন;

    (চ) পক্ষগণের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ;

    (ছ) পক্ষগণকে সিদ্ধান্তে উপনীত হইবার লক্ষ্যে বিকল্প পছন্দ তৈরিতে সহায়তা প্রদান; এবং

    (জ) মধ্যস্থতাকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন।

    ১২। মিমাংসা সভায় প্রতিনিধি মনোনয়ন, ইত্যাদি ।-

    পক্ষগণ স্বীয় পক্ষে মিমাংসা সভায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম-৪ অনুযায়ী প্রতিনিধি মনোনয়ন ও প্রেরণ করিতে পারিবেন।

    ১৩। মিমাংসা চুক্তি ও প্রতিবেদন

    (১) মিমাংসা সভার মাধ্যমে কোন বিরোধ নিষ্পত্তি হইলে মিমাংসার শর্তসমূহ ফরম-৫ মোতাবেক চুক্তি আকারে লিপিবদ্ধ করতঃ উহাতে সম্পাদনকারী হিসাবে পক্ষগণ বা, ক্ষেত্রমত, প্রতিনিধি এবং সাক্ষী হিসাবে উভয় পক্ষ হইতে একজন করিয়া সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ শেষে মিমাংসা সভার সভাপতি হিসাবে লিগ্যাল এইড অফিসার উহাতে স্বাক্ষর ও সীল প্রদান করিবেন।

    (২) মিমাংসা সভার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম ব্যর্থ হইলে বা কোন ইতিবাচক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব না হইলে লিগ্যাল এইড অফিসার যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক এইমর্মে ফরম-৬ মোতাবেক একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবেন।

    (৩) লিগ্যাল এইড অফিসার এই বিধিমালার অধীন মিমাংসা কার্যক্রম সম্পন্ন হইবার বা, ক্ষেত্রমত, উক্তরূপ কার্যক্রম বা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হইবার পর, অনধিক ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে, প্রস্তুতকৃত মিমাংসা চুক্তি বা, ক্ষেত্রমত, প্রতিবেদনের কপি, পক্ষগণকে সরবরাহ করিবেন এবং কমিটির নিকট হইতে প্রাপ্ত নথিপত্র, দলিলাদি ও কাগজপত্রসহ উহার একটি কপি ফরম-৭ অনুসারে, কমিটির নিকট প্রয়োজনীয় কার্যার্থে প্রেরণ করিবেন।

    ১৪। মিমাংসা কার্যক্রমের গোপনীয়তা, ইত্যাদি ।-

    এই বিধিমালার অধীন পরিচালিত মিমাংসা সভায় পক্ষগণ, প্রতিনিধি এবং লিগ্যাল এইড অফিসারের মধ্যে অনুষ্ঠিত কোন আলোচনা বা পরামর্শ, উপস্থাপিত কোন সাক্ষ্য বা প্রদত্ত কোন বিবৃতিসহ মিমাংসা সভার সকল কার্যক্রম গোপনীয় বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং পরবর্তীতে দাখিলীয় কোন মামলা বা মোকাদ্দমার কার্যক্রম, শুনানী বা অন্য কোন কার্যধারায় উহা সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না।

    ১৫। আইনগত প্রশ্নে মতামত প্রদান না করা ।-

    কোন বিরোধ আপোষ-মিমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড অফিসার, উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতি ব্যতীত, বিরোধের সহিত জড়িত আইনী প্রশ্নে মতামত প্রদানে, যতদূর সম্ভব, বিরত থাকিবেন।

    ১৬। মিমাংসা চুক্তি ও প্রতিবেদনের কার্যকারিতা ।-

    এই বিধিমালার অধীন সম্পাদিত এবং লিগ্যাল এইড অফিসের সীলমোহরকৃত মিমাংসা চুক্তি বা, ক্ষেত্রমত, প্রতিবেদন একটি বৈধ আইনগত দলিল হইবে এবং যে কোন আইনগত কার্যধারায় ইহা সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে।